ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মোহাম্মদপুরের বাসায় তৈরী ভেজাল ঔষধ বিক্রি হতো ঢাকার বাজারে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন ডিবিপ্রধান ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় গ্রেফতার ৪৬৫ সাভারে দালালচক্র ও সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজের যোগসাজশে জমি নিবন্ধনে জালিয়াতির অভিযোগ শারদীয় দুর্গাপুজা উৎসব আমাদের জন্য অগ্নি পরীক্ষা: ডিএমপি কমিশনার ছিনতাইকারীদের কাছে বিক্রির জন্য রাখা ছিল ১০৫ সুইচ গিয়ার, গ্রেফতার ১ বাসে ওঠার সময় মোবাইল ছিনতাই, ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় আটক ছিনতাইকারী বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ গ্রেফতার দুই অস্ত্রধারী সাত মাসে সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ: পুলিশ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ছাত্রনেতার উদ্যোগে শতাধিক বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীরা পেল খেলার উপকরণ

মোহাম্মদপুরের বাসায় তৈরী ভেজাল ঔষধ বিক্রি হতো ঢাকার বাজারে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় ভেজাল তৈরী করা হতো শিশুদের ঔষধসহ সংবেদনশীল নানা ধরনের ঔষধ। সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে খোঁদ রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে। সম্প্রতি ভেজাল এসব ঔষধ তৈরীর সরঞ্জামসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওষুধ প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারি বিভাগ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গত ৬ অক্টোবর ওয়ারি বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকার রোড নম্বর ১, বাড়ি নম্বর ২, ব্লক সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

এ সময় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মোহাম্মদ সাজু এবং সজীব। তারা পূর্বে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিল এবং পরবর্তীতে নিজেরা একটি কারখানা গড়ে তোলে। কারখানাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ নকল ওষুধ এবং ক্যাপসুল তৈরি, ক্যাপসুল ভরাট ও লেবেলিং করার আধুনিক যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা এবং এসব ওষুধ সম্পূর্ণ ভেজাল ও বাংলাদেশে অনুমোদনহীন বলে জানায় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে ভেজাল ওষুধ চেনা বেশ দূরহ হলেও মোড়ক ও প্যাকেজিং দেখলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কিছু অনুমোদনহীন ওষুধ প্রতিবেশী দেশ (ভারত) থেকে আনা হচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত ওষুধের তালিকায় নেই এবং নির্দিষ্ট কিছু ডাক্তারের মাধ্যমে প্রেসক্রাইব করিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।

উদ্ধারকৃত ওষুধের তালিকা অনেক লম্বা- জানিয়ে তিনি জানান, এর মধ্যে কিছু আমদানি করা বিদেশি ওষুধও রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবহৃত ‘কিডোকেয়ার’ (কিড ওমেগা) নামক নকল সিরাপও উদ্ধার করা হয়েছে। যেসব নির্দিষ্ট ডাক্তার ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এবং ওষুধগুলো কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, তারা গত তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল এবং তাদের এই কার্যক্রম আপাতত ঢাকা শহরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মোহাম্মদপুরের বাসায় তৈরী ভেজাল ঔষধ বিক্রি হতো ঢাকার বাজারে

আপডেট সময় : ০১:৫৯:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় ভেজাল তৈরী করা হতো শিশুদের ঔষধসহ সংবেদনশীল নানা ধরনের ঔষধ। সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে খোঁদ রাজধানীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে। সম্প্রতি ভেজাল এসব ঔষধ তৈরীর সরঞ্জামসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওষুধ প্রশাসনের দুজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারি বিভাগ ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গত ৬ অক্টোবর ওয়ারি বিভাগের একটি দল মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান এলাকার রোড নম্বর ১, বাড়ি নম্বর ২, ব্লক সি-এর একটি ভবনের তৃতীয় তলায় ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।

এ সময় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মোহাম্মদ সাজু এবং সজীব। তারা পূর্বে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত ছিল এবং পরবর্তীতে নিজেরা একটি কারখানা গড়ে তোলে। কারখানাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ নকল ওষুধ এবং ক্যাপসুল তৈরি, ক্যাপসুল ভরাট ও লেবেলিং করার আধুনিক যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা এবং এসব ওষুধ সম্পূর্ণ ভেজাল ও বাংলাদেশে অনুমোদনহীন বলে জানায় পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে ভেজাল ওষুধ চেনা বেশ দূরহ হলেও মোড়ক ও প্যাকেজিং দেখলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। কিছু অনুমোদনহীন ওষুধ প্রতিবেশী দেশ (ভারত) থেকে আনা হচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত ওষুধের তালিকায় নেই এবং নির্দিষ্ট কিছু ডাক্তারের মাধ্যমে প্রেসক্রাইব করিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।

উদ্ধারকৃত ওষুধের তালিকা অনেক লম্বা- জানিয়ে তিনি জানান, এর মধ্যে কিছু আমদানি করা বিদেশি ওষুধও রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবহৃত ‘কিডোকেয়ার’ (কিড ওমেগা) নামক নকল সিরাপও উদ্ধার করা হয়েছে। যেসব নির্দিষ্ট ডাক্তার ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রাইব করছেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এবং ওষুধগুলো কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, তারা গত তিন থেকে সাড়ে তিন মাস ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল এবং তাদের এই কার্যক্রম আপাতত ঢাকা শহরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ আছে।