ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর উৎকর্ষ প্রকল্পে অনিয়ম-প্রতারণা:/ ইউনিক গ্রুপের নূর আলী’র বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে যশোরে উৎকর্ষের বর্ষবরণ বেগমগঞ্জে এসআই শহীদুলের ‘মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’: ত্রাসে দিশেহারা এক পরিবার মামলায় নাম নেই, তবুও অজ্ঞাত আসামি করে শ্যোন এরেস্ট—সেলিম প্রধানের মুক্তি চায় পরিবার প্রভাতফেরিতে একুশের অঙ্গীকার, শহীদদের স্মরণে নারিকেলবাড়ীয়া বিদ্যালয়ের পুষ্প অর্পণ জামায়াতে যোগ দিয়ে মন্তব্য:/৮০% মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে গুলিতে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি ৩ দেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে এর চেয়ে বেশি সংস্কার আর হয়নি: আসিফ নজরুল রোজায় সংকট ঠেকাতে থাইল্যান্ড থেকে আসবে ১ কোটি ৩৫ লাখ লিটার সয়াবিন

সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৭৮৩ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম বাংলা

সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে একটি বিশেষ “সাতক্ষীরা জেলায় উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে বিশেষ সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প” গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১০সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায় ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমিতি, দেবহাটা উপজেলা সমিতি, কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতি, আশাশুনি উপজেলা সমিতি, তালা উপজেলা সমিতি, কলারোয়া উপজেলা সমিতি, পাটকেলঘাটা থানা সমিতি, শ্যামনগর উপজেলা সমিতি এবং সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরাম।

এছাড়া, দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য থামছে না: স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার পিএসের বরাদ্দ সিন্ডিকেট সাতক্ষীরায় ৩৯ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

বিবৃতিতে জনসংগঠনগুলো উল্লেখ করেন-সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যা জাতীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবুও বিগত ১৭ বছর ধরে এই জেলা কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেনি। দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবন সাতক্ষীরায় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এ জেলায় আগমন করেন। কিন্তু যোগাযোগ অবকাঠামোর করুণ দশা, সুপেয় পানির সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা এবং অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খেলাধুলার জন্য কোন ক্রিড়া কমপ্লেক্স নেই। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। ফুড প্রসেসিং ব্যবস্থাও নেই।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমানে সরকার সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূরীকরণে কিছু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি চিহ্নিত মহল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে সহায়তা করছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেবহাটা উপজেলার উন্নয়নসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা সমিতি, ঢাকার পক্ষ থেকে উক্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। তারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ সার্বিকভাবে দেশের অবহেলিত জেলাগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে, যেখানে রংপুর বিভাগ ও সাতক্ষীরা জেলা বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং সচিব সাতক্ষীরা ও রংপুর বিভাগ সফর করেন এবং নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ দেন।

রংপুর বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপনের বাজেট বরাদ্দসহ গাইবান্ধায় ৯০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ সেতু উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। অথচ সাতক্ষীরার প্রধান সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পূর্ব অনুমোদিত প্রকল্পের বাজেটও কর্তন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

সাতক্ষীরাবাসী এই বৈষম্য মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। তারা দাবি জানায়, সব ধরনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অপপ্রচার বন্ধ করে সাতক্ষীরার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সাতক্ষীরার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। আমরা তাদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

উক্ত যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমিতির সভাপতি আফসার আলী, দেবহাটা উপজেলা সমিতির সভাপতি খাইরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাহাজ্জত হোসেন হিরু, কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির সভাপতি আবু মাসুদ, আশাশুনি উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা সমিতির ড. মোল্লা রেজাউল করিম, শ্যামনগর উপজেলা সমিতির সভাপতি সামছুল আলম, কলারোয়া উপজেলা সমিতির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম জয়তু, পাটকেলঘাটা থানা সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন আকাশ এবং সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম বাংলা

সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে একটি বিশেষ “সাতক্ষীরা জেলায় উন্নয়ন বৈষম্য নিরসনে বিশেষ সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প” গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (১০সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায় ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকাস্থ সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমিতি, দেবহাটা উপজেলা সমিতি, কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতি, আশাশুনি উপজেলা সমিতি, তালা উপজেলা সমিতি, কলারোয়া উপজেলা সমিতি, পাটকেলঘাটা থানা সমিতি, শ্যামনগর উপজেলা সমিতি এবং সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরাম।

এছাড়া, দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য থামছে না: স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার পিএসের বরাদ্দ সিন্ডিকেট সাতক্ষীরায় ৩৯ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

বিবৃতিতে জনসংগঠনগুলো উল্লেখ করেন-সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যা জাতীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবুও বিগত ১৭ বছর ধরে এই জেলা কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আসেনি। দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুন্দরবন সাতক্ষীরায় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এ জেলায় আগমন করেন। কিন্তু যোগাযোগ অবকাঠামোর করুণ দশা, সুপেয় পানির সংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা এবং অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খেলাধুলার জন্য কোন ক্রিড়া কমপ্লেক্স নেই। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। ফুড প্রসেসিং ব্যবস্থাও নেই।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বর্তমানে সরকার সাতক্ষীরার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূরীকরণে কিছু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি চিহ্নিত মহল উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে সহায়তা করছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেবহাটা উপজেলার উন্নয়নসংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা সমিতি, ঢাকার পক্ষ থেকে উক্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। তারা বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার বিভাগ সার্বিকভাবে দেশের অবহেলিত জেলাগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে, যেখানে রংপুর বিভাগ ও সাতক্ষীরা জেলা বিশেষভাবে চিহ্নিত হয়। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এবং সচিব সাতক্ষীরা ও রংপুর বিভাগ সফর করেন এবং নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ দেন।

রংপুর বিভাগের প্রতিটি উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপনের বাজেট বরাদ্দসহ গাইবান্ধায় ৯০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ সেতু উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা। অথচ সাতক্ষীরার প্রধান সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পূর্ব অনুমোদিত প্রকল্পের বাজেটও কর্তন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

সাতক্ষীরাবাসী এই বৈষম্য মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। তারা দাবি জানায়, সব ধরনের উন্নয়ন বৈষম্য ও অপপ্রচার বন্ধ করে সাতক্ষীরার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সাতক্ষীরার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। আমরা তাদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি সাতক্ষীরা জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

উক্ত যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার সভাপতি প্রকৌশলী আবুল কাশেম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমিতির সভাপতি আফসার আলী, দেবহাটা উপজেলা সমিতির সভাপতি খাইরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক তাহাজ্জত হোসেন হিরু, কালিগঞ্জ উপজেলা সমিতির সভাপতি আবু মাসুদ, আশাশুনি উপজেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা উপজেলা সমিতির ড. মোল্লা রেজাউল করিম, শ্যামনগর উপজেলা সমিতির সভাপতি সামছুল আলম, কলারোয়া উপজেলা সমিতির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম জয়তু, পাটকেলঘাটা থানা সমিতির সভাপতি রুহুল আমীন আকাশ এবং সাতক্ষীরা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ফোরামের সভাপতি ইকবাল মাসুদ।