বেগমগঞ্জে এসআই শহীদুলের ‘মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’: ত্রাসে দিশেহারা এক পরিবার
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ২১৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ এই প্রবাদটি হাড়ে হাড়ে মিলে যায়
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুলের ক্ষেত্রে। নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলায় দূর্গাপুর ইউনিয়নের দাওয়াত খোলা বাজার সংলগ্ন বেহারা বাড়ির আনোয়ার ও হাসিনা দম্পতিকে ফাঁসানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। পৈতৃক জমিতে ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, ক্রসফায়ার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্গাপুর ইউনিয়নের দাওয়াতখোলা বাজার সংলগ্ন বেহারা বাড়ির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন তার পৈতৃক জমিতে ঘর তোলার চেষ্টা করলে বাধা দেন তার সহোদর ভাই বেলাল ও তার পরিবার। বেলালের বড় ছেলে জাবেদ ও পুত্রবধূ সালমা (কুতুবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা) প্রভাবশালী মহলের (মেম্বার) সাহায্যে আনোয়ারকে ঘর তুলতে বাধা প্রদান করছেন। আরও জানা যায়, সালমার বাবা সালেহ আহমেদ (উপজেলা পরিষদে কর্মরত) স্থানীয় একটি চক্রের সহায়তায় এসআই শহীদুলকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে বেলালকে আনোয়ারের জমির দখল বুঝিয়ে দিতে চাচ্ছেন। আর ঘুষের মোহে অন্ধ বনে যাওয়া এসআই শহীদুল সব ধরণের হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন আনোয়ার ও তার পরিবারের বড় ধরণের ক্ষতি সাধণ করতে।
দাওয়াতখোলা, বেহারা বাড়ি, মন্দার বাড়ির দরজা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী আনোয়ার ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৈতৃক জমিতে বেলাল একটি ঘর আগেই তুলেছেন। কিন্তু বিপত্তি বাধে আনোয়ার ঘর তুলতে গেলে। নিজের ঘর পেছন দিকে পড়ে যাচ্ছে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন বেলাল ও তার স্ত্রী। আনোয়ারের ঘর তৈরির কথা জানান কুতুবপুরে বসবাসরত তাদের ছেলে জাবেদ ও তার স্ত্রী সালমাকে। এরপর এরা সবাই একত্রিত হয়ে সালমার বাবা সালেহ এর যোগসাজশে এসআই শহীদুলের দারস্থ হন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার ও তার স্ত্রী হাসিনার অভিযোগ এবং এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুসারে, এসআই শহীদুল আনোয়ারকে ঘর তুলতে নিষেধ করেছেন এবং অমান্য করলে ‘ক্রসফায়ার’ ও নানা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছেন। এমনকি এই পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার ও তার স্ত্রীকে নারী নির্যাতনের একটি মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
আনোয়ার বলেন, “এসআই শহীদুল আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে না জানিয়ে যেন পৈতৃক জমিতে হাত না দেই। দিলে আমার বড় ধরণের ক্ষতি হবে। অথচ এটি আমাদের বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি।”
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসাইন আবির এই বিষয়ে বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানে থানা পুলিশ কোন দেওয়ানি মামলা নিতে পারে না এবং সালিশ করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কেননা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মূলত দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়। আনোয়ারের তরফ থেকে কোন ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা ঘটেনি এবং কোন প্রমাণও পুলিশ বা অভিযোগকারীরা দেখাতে পারেনি সেহেতু এটা স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহীদুল প্রভাবিত হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং গুরুতর অপরাধ।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান খান জানান, জমিজমা নিয়ে মারামারি বা ফৌজদারি অপরাধ হলে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে, এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান কবির আহমদ ফারুক জানিয়েছেন, তার অধীনস্থ কোনো সদস্যের অনধিকার চর্চার সুযোগ নেই।
তবে অভিযুক্ত এসআই শহীদুল সশরীরে কথা বলতে রাজি না হলেও টেলিফোনে জানান, তিনি আনোয়ারকে থানায় ডেকেছেন এবং বিষয়টি ‘মিমাংসা’ করে দেবেন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, জাবেদের স্ত্রী সালমার আত্মীয় কুতুবপুর ইউনিয়নের বিবি মরিয়ম ২০২১ সালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, বেলাল-জাবেদ-সালমা গংরা একইভাবে এখন পুলিশকে ব্যবহার করে আনোয়ারের পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন জানমালের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।









