মামলায় নাম নেই, তবুও অজ্ঞাত আসামি করে শ্যোন এরেস্ট—সেলিম প্রধানের মুক্তি চায় পরিবার
- আপডেট সময় : ১২:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
মামলায় নাম না থাকলেও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে বারবার শ্যোন এরেস্ট দেখিয়ে ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবার। বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে বক্তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেলিম প্রধানের বোন স্মৃতি প্রধান। তিনি বলেন, “আমার ভাইকে বারবার মিথ্যা মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে জাপানে বেড়ে ওঠা সেলিম প্রধান দেশে ফিরে রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেন। জাপানের মতো করে নিজ এলাকাকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে নানা বাধা সৃষ্টি করে।
স্মৃতি প্রধান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর হস্তক্ষেপে সেলিম প্রধানকে মিথ্যা মামলায় আটক করে চার বছরের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তখন তাকে বিএনপিকে আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছিল। এখন আবার নতুন করে তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলবন্দি রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, গত বছর বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও একাধিকবার জেলগেট থেকেই তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় অন্তর্ভুক্ত না হয়েও তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে স্মৃতি প্রধান বলেন, “আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রধানের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে আমাদের এই হয়রানি থেকে মুক্তি দিন এবং প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করুন।”
মানববন্ধনে পরিবারের সদস্য রিয়াদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন জাপানে থাকার পর দেশে ফিরে সেলিম প্রধান ব্যবসা ও সমাজসেবায় যুক্ত হন। কিন্তু দেশে আসার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তাকে জেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সেলিম প্রধান সবসময় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং সমাজের অসংগতি তুলে ধরেছেন। তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা আগেও তার প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছে। এখনও তাকে জেলে রেখে সেই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিবারের আরেক সদস্য মহিবুর রহমান জয় বলেন, অতীতে সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলার কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। “আমরা এখন আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না, আমাদের একটাই দাবি—সেলিম প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তি,” বলেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দেশের সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের সমান বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং দ্রুত সেলিম প্রধানের মুক্তি দাবি করেন।









