মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে চায় সরকার
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক,
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে শিশু শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার একটি ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা এবং আহতদের সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্তের প্রেক্ষিত, কারণ, দায়দায়িত্ব ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে নিহত শিশু ও শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক নিহতদের পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।
আহতদের ক্ষেত্রে অগ্নিদগ্ধের মাত্রা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুতর আহত শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মাঝারি মাত্রার আহত শিশুদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং তুলনামূলকভাবে কম বা স্বল্পমেয়াদি আহত শিশুদের জন্য ১৫ লাখ টাকা ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০ লাখ টাকা দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বা গুরুতর অগ্নিদগ্ধ যাদের প্রায় ১৫ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন হবে, তাদের জন্য ১৫ লাখ টাকার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। যাদের ১০ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের জন্য ৯ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছর চিকিৎসা প্রয়োজন এমন আহতদের জন্য এক লাখ টাকার পুনর্বাসন প্যাকেজ সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন।
নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের অর্ধেক অর্থ এককালীন নগদ দেওয়া হবে। বাকি অর্ধেক পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র আকারে দেওয়া হবে। আহত শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ৫০ শতাংশ সমান দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তির এক বছর পর দেওয়া হবে দ্বিতীয় কিস্তি। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখা হবে, যা শিশুর বয়স ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে না। প্রাপ্তবয়স্ক আহতদের ক্ষেত্রেও একইভাবে দুই কিস্তিতে ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রাখা হবে।
ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অর্থ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল এবং জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রণীত ক্ষতিপূরণ মডেল অনুসরণ করে এ সুপারিশ করেছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের ভবিষ্যৎ জীবনে সম্ভাব্য দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে বিধ্বস্ত বিমানের তরুণ পাইলটের পরিবারের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ সুপারিশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী তাদের নিজস্ব বিধিমালা অনুযায়ী পাইলটের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে।
গত ২১ জুলাই দুপুরে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান (প্রশিক্ষণ) বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩৫ জন নিহত এবং প্রায় ১৭২ জন আহত হন। নিহত ও আহতদের বেশির ভাগই ছিল ১৮ বছরের নিচের শিশু শিক্ষার্থী, যাদের অধিকাংশই অগ্নিদগ্ধ হয়।










